বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি ট্রেড জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্দরকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে এ অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে রূপ দেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ হাবে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চাইনিজ ইকোনমিক জোন স্থাপন এবং লাকসাম কর্ডলাইনের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার উদ্যোগও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক করিডোর গড়ে উঠবে। বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং মাতারবাড়িকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি কঠিন ও ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। তাই প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, এরপর উন্নয়ন ও বিনিয়োগের গতি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর, আইনজীবী আবদুস সাত্তারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/