কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারি (চায়না জাল) ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসে দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছের প্রজনন মৌসুম চললেও নির্বিচারে মাছ ধরার কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের বংশবিস্তার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নদী ও নালায় চায়না দুয়ারি জাল বসিয়ে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব জালে শুধু বড় মাছই নয়, রেণু, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নিষিদ্ধ এ জাল ব্যবহার করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদও হুমকির মুখে পড়ছে।
হাতিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, “আগে বর্ষাকালে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।”
একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের জাল দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি। এ কারণেই সরকার এসব জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
উলিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রফিকুল ইসলাম বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. আরিফ বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দেরও এ বিষয়ে সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”
https://slotbet.online/