খাগড়াছড়ির গুইমারায় ইয়াবা সেবন ও নিজের হেফাজতে রাখার অপরাধে মোঃ জিয়াউর রহমান (৩০) নামের এক মাদকসেবীকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। (বুধবার ২২ জুলাই) বিকেলে গুইমারা সদর আওতাধীন যৌথ খামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ জিয়াউর রহমান গুইমারা উপজেলার বড় পিলাক এলাকার মোঃ আবুল হাসেমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুইমারা থেকে একটি সিএনজিযোগে এসে জিয়াউর রহমান ও তার সাথে থাকা আরেক ব্যক্তি চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীর বাসার দিকে যান। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে নজরদারি করেন। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা ওই বাসা থেকে বের হলে স্থানীয়রা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় জিয়াউর রহমানকে আটক করা গেলেও অপরজন পালিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামিরা তাদের কাছে থাকা ইয়াবা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলে দেন এবং প্রস্রাব করার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের কঠোর জেরার মুখে তারা ইয়াবা সেবন ও সাথে করে নিয়ে আসার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে স্থানীয়রা তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া ইয়াবাসংবলিত ট্যাবলেটগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (৫) ধারা অনুযায়ী ইয়াবা সেবন ও নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে জিয়াউর রহমানকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোহরাওয়ার্দী জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদক ব্যবসায়ী ও তার চক্রের সদস্যরা প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রভাবশালী মহলের কিছু অসাধু ব্যক্তিদের পরোক্ষ মদদ বা সহযোগিতার কারণে এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সামাজিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাদক কারবারিরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য যৌথভাবে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
https://slotbet.online/