• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা : হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে সোমবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের অভিনন্দন হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭ সোনার ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই ‘অটো ফাইন’ চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সিগারেট জব্দ ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ২.৮০ কোটি টাকার ভুয়া বিলের দাবি বীরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন, পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত চীনের উদ্ভাবন, সংস্কৃতি ও সবুজ উন্নয়ন দেখতে বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদল অসভ্যতার সব সীমা পার: আইইবিতে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে ‘হাবলুর গুরুর’ ক্যাডারতন্ত্র!

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০ বছরের ব্যবধানে মা-ছেলের বাঁশখালী সফর

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম: / ৬৭ Time View
প্রকাশকাল : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

প্রায় দুই দশক পর আবারও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী। ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বাঁশখালী সফর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এবার তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাঁশখালী সফর ঘিরে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

২০০৬ সালের সেই সফরের স্মৃতি এখনো বাঁশখালীর মানুষের মনে উজ্জ্বল। সেসময় বাঁশখালী জলদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল। তৈলারদ্বীপ থেকে চাম্বল পর্যন্ত সড়কে নেমেছিল মানুষের ঢল। সফরকালে তৈলারদ্বীপ সেতু, বাঁশখালী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উদ্বোধন করা হয়।

এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় দুই দশক। সময়ের সঙ্গে বাঁশখালীতে নতুন সড়ক ও অবকাঠামো নির্মিত হলেও উপকূলীয় এ জনপদের মানুষের দুর্যোগঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘর হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাত। গবাদিপশু ও অন্যান্য সম্পদ হারিয়ে অনেক পরিবার এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাঁশখালী সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শনিবার তিনি অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বাঁশখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়সহ মাটির ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর তাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, বরং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোযোগের প্রতীক। ঘর হারানো মানুষ চান দ্রুত পুনর্বাসন, কৃষক চান ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে আবার চাষাবাদের সুযোগ এবং মৎস্যচাষিরা চান ক্ষতিগ্রস্ত ঘের পুনর্গঠনে সহায়তা।

উপকূলীয় এলাকার মানুষের অন্যতম বড় দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ। ছনুয়া, বড়ঘোনা, গণ্ডামারা, সরল, খানখানাবাদ ও বাহারছড়ার উপকূলীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ, নিরাপদ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাঁশখালীর মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাঁশখালী এসেছিলেন মা বেগম খালেদা জিয়া। প্রায় দুই দশক পর একই জনপদে আসছেন তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই সময়ের বাঁশখালীর বাস্তবতা ভিন্ন হলেও মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটি অনেকটা একই—উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও দুর্যোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি।

স্থানীয়দের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর বন্যায় ক্ষতবিক্ষত বাঁশখালীর মানুষের জন্য নতুন আশার সূচনা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/