খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ২নং হাফছড়ি ইউনিয়নের কুকিছড়া এলাকার এক বিধবা মারমা নারীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করে গুইমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে এলাকাবাসী।
আটক ব্যক্তি ম্রাসা মারমা (৩৫)। তিনি গুইমারা উপজেলার বড়ইতলী গ্রামের মৃত আরে মারমার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি মুরগির খামারের পাশের বাসায় তাকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বাসায় থাকা কয়েকজন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তিনি জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর জানান যে চারজন ব্যক্তি পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেছে।
অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবনের কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার সন্ধ্যায় তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময়ও তিনি পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিলেন না।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্যোতিসারা ভান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কার্বারি ও মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই জানান, চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে তার বোনকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনো চাকরির ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় দুই গ্রামের কার্বারি, মুরুব্বি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ম্রাসা মারমাকে আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে গুইমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী জানান, ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়ের করলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।
https://slotbet.online/