চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আগে যেখানে সড়কে চলাচলকারী মানুষ ও বাস থেকে নামা যাত্রীরাই ছিল ছিনতাইকারীদের প্রধান লক্ষ্য, এখন তাদের তৎপরতা পৌঁছে গেছে আবাসিক হোটেলেও। ভোরবেলা হোটেলে অবস্থানরত যাত্রীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে সিডিএ মার্কেটের কাজী মসজিদ সংলগ্ন পার্ক ইন হোটেলে এমন একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক নির্বিঘ্নে হোটেলের দ্বিতীয় তলায় উঠে কাউন্টারে প্রবেশ করে। পরে সুযোগ বুঝে পার্কিং বয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম রাকিব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়তলীর এ কে খান মোড়, অলংকার, জোলাপাড়া ও সিডিএ মার্কেট এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। রাকিব ওই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত ভোরে দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীদের অনুসরণ করে। যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তারা যাত্রীরা যে হোটেলে অবস্থান করেন, সেখানেও প্রবেশ করে অপরাধ সংঘটিত করছে। নোয়াপাড়া এলাকার রাকিব ছাড়াও রায়হান ও তাশেফ নামে আরও দুজন এই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশ্রয়ের কারণে এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর জানান, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার আশায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উল্টো তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি পাহাড়তলী থানায় লিখিত জিডি করেন। তবে এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন উদ্ধার কিংবা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পাহাড়তলী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, “রাকিবসহ একাধিক ছিনতাইকারী চক্রের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে গত কয়েকদিনে পাহাড়তলী ও আশপাশের এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আকবরশাহ রেল হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা হামিদ জানান, গত ৯ জুন ভোরে এ কে খান মোড়ে বাস থেকে নামার পর ছুরি ঠেকিয়ে তার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে রফিক উল্লাহ নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, গত ৩ জুন অলংকার মোড়ে বাস থেকে নামার পর দুই ছিনতাইকারী তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত হলেও সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়তলী ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। না হলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে।
https://slotbet.online/