অচেনা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হঠাৎ করেই মোবাইল ফোনে কল আসার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কখনো যুক্তরাষ্ট্র, কখনো ইরান, ওমান কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কান্ট্রি কোড ব্যবহার করে আসছে এসব কল। হঠাৎ এমন নম্বর থেকে কল আসায় অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে মূলত বড় কোনো আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে।
চক্রটি সাধারণত আকর্ষণীয় চাকরির অফার, লটারি জেতার ভুয়া প্রলোভন কিংবা দামি উপহার দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে। একবার কোনোভাবে ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলেই তারা বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ওটিপি (OTP) কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাক্সেস হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ই-সিমসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সিম কার্ড সহজলভ্য হওয়ায় প্রতারকদের এই কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনেক সময় নিজ দেশে বসেই আন্তর্জাতিক নম্বর প্রদর্শন করে এসব কল করা হচ্ছে।
এদের প্রতারণার কৌশলও ভিন্ন ভিন্ন। কেউ শুধু একটি ‘মিসড কল’ দিয়ে ভুক্তভোগীর মনে কৌতূহল তৈরি করে, যাতে তিনি নিজে থেকে আবার কল ব্যাক করেন। আবার কেউ কুরিয়ার সার্ভিস বা স্বনামধন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সেজে জরুরি কথা বলার বাহানায় বারবার কল দিতে থাকে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
অচেনা কোনো আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে কল এলে তা রিসিভ না করা এবং ভুলেও সেই নম্বরে ফিরতি কল বা কল ব্যাক না করা। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের কলে ফিরতি ফোন দিলে বিপুল পরিমাণ টাকা বা মোবাইল ব্যালেন্স কেটে নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে অবশ্যই কান্ট্রি কোড দেখে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে +৯২ (পাকিস্তান), +৮৪ (ভিয়েতনাম), +৬২ (ইন্দোনেশিয়া), +১ (যুক্তরাষ্ট্র) বা +৯৮ (ইরান) এর মতো কোডযুক্ত অচেনা নম্বরগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
কলার আইডি শনাক্তের জন্য Truecaller–এর মতো বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা স্প্যাম বা সন্দেহজনক নম্বর আগে থেকেই শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
কোনো নম্বর সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি ব্লক করে দেওয়া এবং স্প্যাম হিসেবে রিপোর্ট করা উচিত।
WhatsApp বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপে “Silent Unknown Callers” অপশনটি চালু রাখলে অচেনা নম্বরের কলগুলো নিজে থেকেই সাইলেন্ট হয়ে যাবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কল থেকে বাঁচতে ফোনে ‘ডিএনডি’ (Do Not Disturb) সেবাটি চালু রাখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বড় প্ল্যাটফর্মের ডেটাবেজ ফাঁস হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বরগুলো এই প্রতারক চক্রের হাতে পৌঁছে থাকতে পারে।
সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে পরে অনুতপ্ত হওয়ার চেয়ে আগে থেকেই সচেতন ও সতর্ক থাকাই হচ্ছে এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রযুক্তি ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতাও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
https://slotbet.online/