স্বল্প আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ ও মানসম্মত ভোজ্যতেল সহজলভ্য করতে সাশ্রয়ী মূল্যের আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ ভোজ্যতেল খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়ায় ভোক্তারা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। কম খরচে নিরাপদ প্যাকেজিং প্রযুক্তি চালু করা গেলে নিম্ন আয়ের মানুষও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজশাহী নগরীর নানকিং দরবার হলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সহজলভ্যকরণে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজিং প্রচলন” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। সাশ্রয়ী মূল্যের নিরাপদ প্যাকেজিং প্রযুক্তি চালু করা গেলে নিম্ন আয়ের মানুষও নিরাপদ খাদ্যের আওতায় আসবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার। তিনি বলেন, আলোর প্রভাবে ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতা কমে যায় এবং ভোজ্যতেলে অক্সিডেশন বৃদ্ধি পায়। ফলে তেলের গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবহারে এসব ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, খোলা তেলের অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থা ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বাজারে স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, খোলা ভোজ্যতেলকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ক্যাব কাজ করে যাচ্ছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম. রেজাউল করিম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী।
বক্তারা বলেন, সরকার, উৎপাদক ও ভোক্তা সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সাশ্রয়ী প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালু হলে ভোজ্যতেলের অপচয় কমবে, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত ভোজ্যতেল আরও সহজলভ্য হবে।
https://slotbet.online/