যারা ঢাকায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন, তাদের জন্য ঢাকার কাছেই রয়েছে বেড়াতে যাওয়ার বেশ কয়েকটি স্থান। ঢাকার বেশ কাছে হওয়ায় এবং যানজট না থাকায় চট করেই বেড়িয়ে আসতে পারেন দর্শনীয় এই স্পটগুলোয়। দিনের মধ্যে গিয়ে ফিরে আসা সম্ভব এ রকম ৫টি ভ্রমণ গন্তব্য সম্পর্কে জেনে নিন।
পানাম নগর
ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঐতিহাসিক পানাম নগর। পানাম নগর বা পানাম সিটি বাংলাদেশীদের কাছে এক বিস্ময়। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় জায়গা করে নেয় এই পানাম নগর। এই পানাম নগরের গা ঘেষে আছে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। এক দিনে এ দুটি স্থান ঘুরে আসতে পারেন।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে বেশ কিছু বাস যায় নারায়ণগঞ্জ। দোয়েল, স্বদেশ বা বোরাকের এসি বাসে উঠলে নামতে হবে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায়। গুলিস্তান থেকে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে ব্যাটারিচালিত অটো বা রিকশায় ১০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়ায় পানাম নগরীতে যাওয়া যায়।
মহেরা জমিদার বাড়ি
টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ৮ একর জায়গা জুড়ে মহেরা জমিদার বাড়ি। প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের নিদর্শন মহেড়া জমিদার বাড়ির সঙ্গে রয়েছে মিনি পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও বোট রাইডের ব্যবস্থা। ঢাকার বেশ কাছে বলে ভোরে রওনা দিলে সারা দিনের মধ্যে জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসা যায়।
যেভাবে যাবেন
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিনিময়, ঝটিকা, ধলেশ্বরী বাস যায় টাঙ্গাইল। ভাড়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। নামতে হবে নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে। সেখান থেকে সিএনজি, রিকশা বা বেবিট্যাক্সিতে চড়ে মহেরাপাড়া পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেতে হবে। মহেরা জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। এখানে রয়েছে সাতটি স্থাপনা। চোখজুড়ানো এই জমিদার বাড়ির কেন্দ্রীয় ব্লকে গড়ে তোলা হয়েছে জাদুঘর। বালিয়াটি প্যালেস নামেও পরিচিত এই জমিদার বাড়িতে রুম আছে ২০০টি। প্রচীন নির্মাণশৈলীর কারণে এই রুমগুলো দেখার মতো। চুন-সুড়কি, লোহার পাত আর কাদামাটি দিয়ে বানানো বালিয়াটি জমিদার বাড়ি তৎকালীন জমিদারদের অভিজাত্য ধরে রেখেছে।

যেভাবে যাবেন
এই জমিদার বাড়িতে যেতে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে সাটুরিয়া হয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া গাবতলী থেকে সাটুরিয়াগামী এসবি লিংক পরিবহনে উঠে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি যাবেন বললে সুবিধাজনক স্থানে নামিয়ে দেবে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গাজুড়ে এই পার্ক। অনেকটা থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে এই সাফারি পার্কটি। ২০১৩ সালে চালু করা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কোর সাফারিতে বনের উন্মুক্ত পরিবেশে আছে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হরিণ।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালী থেকে শ্রীপুর, ভালুকা কিংবা ময়মনসিংহগামী বাসে গাজীপুর চৌরাস্তা অতিক্রম করে আরো কিছুটা সামনে গেলে বাঘের বাজারে সাফারি পার্কের বিশাল সাইনবোর্ড দেখা যাবে। বাঘের বাজার থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক’ যেতে ২০-৪০ টাকা রিকশা বা অটোরিকশা ভাড়া লাগে।
জিন্দা পার্ক
নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত জিন্দা পার্কে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারের বেশি গাছ, ৫টি জলাধার এবং অসংখ্য পাখি রয়েছে। পার্কের ভেতরে আছে মার্কেট, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও চিড়িয়াখানা। এ ছাড়া নৌবিহারের জন্য পার্কের লেকে আছে ৮টি সুসজ্জিত নৌকা।
যেভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড এসে ৩০০ ফিট রাস্তার প্রান্ত থেকে লোকাল সিএনজি বা লেগুনা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যেতে হবে। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাইপাসের মোড় হতে লোকাল অটোতে জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে কুড়িল ৩০০ ফিট রাস্তা থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সা রিজার্ভ নিয়ে সরাসরি জিন্দা পার্ক যেতে পারবেন।
https://slotbet.online/