দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামের ৬৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের ১৪টি এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদি) কোর্স পরিচালনাকারী ৫৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একই তালিকায় কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির আরও ৪৪টি প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্তভাবে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের আগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও পরিচালকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়। এছাড়া ৪ ও ১৮ জুন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৮ জুন জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়।
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ও পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২২ জুলাই এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ জুনের মধ্যে ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় মোট ১ হাজার ৮৫৩টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি, দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১২০টি, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইলের ১২টি, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচারের ১৫টি এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স পরিচালনাকারী ১ হাজার ৮৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচারের তালিকায় চট্টগ্রামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিম বলেন, ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি ও অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারে।’
এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে চট্টগ্রামের ১০টি, দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে তিনটি মাদ্রাসা, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে দুটি কলেজ এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদি) কোর্স পরিচালনাকারী ৫৪টি প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
https://slotbet.online/