ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের সামনে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বী রনিকে লাঞ্ছনা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও সুজাউদ্দিন সুজনের বিরুদ্ধে আইইবিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী।
লিখিত অভিযোগে রনি জানান, সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আইইবির ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে গেলে সেখানে উপস্থিত নজরুল ইসলাম তাঁর সঙ্গে অযাচিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। নিজেকে আইইবি ঢাকা সেন্টারের কাউন্সিল মেম্বার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই আচরণের প্রতিবাদ করলে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন রনি। তাঁর দাবি, তাঁকে উদ্দেশ করে ‘আগামীকালের মধ্যে তোকে খেয়ে ফেলবো’—এমন হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর কিছুক্ষণ পর সুজাউদ্দিন সুজন নামের আরেক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন। ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁকে ‘থাপ্পড় দিয়ে দাঁত খুলে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রনি।
অভিযোগে রনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় নজরুল ইসলাম নিজেকে ‘এ্যাব’-এর সদস্য সচিব শোয়েব বাঁশরী হাবলুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে নিজেকে হাবলুর ‘গুরু ও বড়ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংগঠনে তাঁর প্রভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম, সুজাউদ্দিন সুজন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। তবে ওই সালিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রনির অভিযোগ, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় সালিশে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ঘটনার বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট মুছে ফেলতে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন রনি। তাঁর দাবি, শাহাদাত মাছুম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পোস্টটি সরিয়ে নিতে তাঁকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এ কারণে নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—
১. ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নজরুল ইসলাম ও সুজাউদ্দিন সুজনের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. প্রভাবমুক্ত ও পক্ষপাতহীন তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ বা হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বী রনি বলেন, পেশাজীবী সংগঠনের দীর্ঘদিনের একজন সক্রিয় কর্মী ও কর্মকর্তা হিসেবে পরিবার নিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক লাউঞ্জে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম, সুজাউদ্দিন সুজন, শোয়েব বাঁশরী হাবলু ও শাহাদাত মাছুমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
https://slotbet.online/