• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা : হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে সোমবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের অভিনন্দন হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭ সোনার ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই ‘অটো ফাইন’ চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সিগারেট জব্দ ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ২.৮০ কোটি টাকার ভুয়া বিলের দাবি বীরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন, পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত চীনের উদ্ভাবন, সংস্কৃতি ও সবুজ উন্নয়ন দেখতে বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদল অসভ্যতার সব সীমা পার: আইইবিতে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে ‘হাবলুর গুরুর’ ক্যাডারতন্ত্র!

শিশুর শারীরিক বিকাশে খেলাধুলা

অনলাইন ডেস্ক / ২২ Time View
প্রকাশকাল : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

একটি শিশুর খিলখিল হাসি, দৌড়ে বেড়ানো পা আর অফুরন্ত প্রাণচাঞ্চল্যই বলে দেয় সে কতটা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। শৈশবের এই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দই আসলে সুস্থতার সবচেয়ে সহজ প্রকাশ। কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের নগরজীবনে অনেক শিশু চার দেয়ালের ভেতর বন্দি- খেলার মাঠের বদলে তাদের সঙ্গী হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন, ট্যাব বা টেলিভিশনের পর্দা। নীল আলোয় ডুবে থাকা এই স্থির জীবনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক চঞ্চলতা, দৌড়ঝাঁপ আর মুক্ত গতির আনন্দ। এই পরিবর্তনটা শুধু আচরণগত নয়, এর প্রভাব পড়ছে শিশুর শারীরিক বিকাশেও। কারণ শৈশব এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন শরীরের হাড়, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত গড়ে ওঠে। এই বয়সেই নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ, লাফালাফি ও খেলাধুলার অভ্যাসে তাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই শক্ত, সহনশীল এবং কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। এই সময়ে পর্যাপ্ত নড়াচড়া না করলে হাড় শক্ত হওয়ার সুযোগ কমে যায়, পেশি দুর্বল থাকে এবং ভবিষ্যতে নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই শৈশবকে শুধু পড়াশোনা বা স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাকে মুক্ত রাখতে হবে খেলাধুলার জগতে। কারণ একটি সক্রিয়, প্রাণবন্ত শৈশবই পারে একটি সুস্থ, সবল ও আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।

শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য শুধু পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা। তবে এর মানে এই নয় যে শিশুকে জিমে যেতে হবে বা ভারী ব্যায়াম করতে হবে। বরং খেলাধুলাই তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ, আনন্দময় এবং কার্যকর ব্যায়াম। মাঠে দৌড়ঝাঁপ, লাফালাফি বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলাই শিশুর শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। শিশুর হাড় মজবুত করার জন্য ‘ওয়েট বেয়ারিং’ ধরনের কাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন একটি শিশু দৌড়ায়, লাফায় বা কোথাও ঝোলে, তখন তার হাড়ের ওপর একটি স্বাভাবিক চাপ পড়ে। এই চাপ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে হাড় হয়ে ওঠে আরও শক্ত ও টেকসই। একই সঙ্গে পেশিগুলোও শক্তিশালী ও নমনীয় হয়। ছোটবেলায় এই অভ্যাস গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম হলো দৌড়ঝাঁপের খেলা; যেমন- লুকোচুরি, ধরাধরি বা কানামাছি। এই খেলাগুলো শিশুর পুরো শরীরকে সক্রিয় করে। দৌড়ানোর সময় পায়ের পেশি শক্ত হয়, হৃদযন্ত্র ভালো থাকে এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। আবার এসব খেলায় হঠাৎ দিক পরিবর্তনের ফলে শিশুর ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতাও উন্নত হয়। দেখতে সাধারণ হলেও এই খেলাগুলো শিশুর শারীরিক বিকাশে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। লাফানোর খেলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দড়িলাফ বা এক পায়ে লাফানোর মতো খেলাগুলো হাড়কে আরও দৃঢ় করে তোলে। যখন শিশু ওপর থেকে নিচে লাফায়, তখন শরীরে যে কম্পন তৈরি হয় তা হাড়ের টিস্যুকে সক্রিয় করে। এর ফলে হাড়ের গঠন আরও শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি শরীরের সমন্বয়ক্ষমতা ও ব্যালান্সও উন্নত হয়। বল খেলা শিশুদের জন্য আরেকটি চমৎকার ব্যায়াম। ফুটবল, ক্রিকেট বা বাস্কেটবল খেলতে গিয়ে শিশু দৌড়ায়, লাফায়, বল ছোড়ে বা লাথি মারে- যার ফলে শরীরের বড় পেশিগুলো সক্রিয় হয়, এতে হাত ও চোখের সমন্বয়ক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে দলগতভাবে খেলার মাধ্যমে শিশু সামাজিক আচরণ, সহমর্মিতা এবং দলবদ্ধ কাজের গুরুত্বও শেখে। ওঠানামার খেলাগুলোও খুব উপকারী। গাছে ওঠা, স্লাইডে ওঠা বা মাংকি বারে ঝুলে থাকা- এসব কাজ শিশুর হাত, কাঁধ, পিঠ ও বাহুর পেশিকে শক্ত করে। এতে শরীরের ওপরের অংশের বিকাশ ভালো হয় এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শিশুর আত্মবিশ্বাসও বাড়ে, কারণ সে নিজে নিজে নতুন কিছু করতে শেখে। সাঁতার ও সাইকেল চালানোও শিশুর শারীরিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম যেখানে শরীরের প্রায় সব পেশি একসঙ্গে কাজ করে। এতে সহনশীলতা বাড়ে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যক্রম উন্নত হয়। অন্যদিকে, সাইকেল চালানো পায়ের পেশিকে শক্ত করে এবং জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

তবে খেলাধুলার পাশাপাশি সঠিক পুষ্টিও খুব জরুরি। শিশুর শরীরের শক্তি পূরণের জন্য দরকার সুষম খাদ্য। হাড় মজবুত করার জন্য ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন- দুধ, দই ও পনির প্রয়োজন। এই ক্যালসিয়াম ঠিকভাবে কাজ করতে ভিটামিন ডি দরকার, যা পাওয়া যায় সূর্যালোক ও ডিম থেকে। পেশি গঠন ও মেরামতের জন্য মাছ, মাংস, ডাল ও বাদাম গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া খেলাধুলার পর শরীর থেকে যে পানি বের হয়ে যায়, তা পূরণ করতে পর্যাপ্ত পানি পান করানো উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুরা অনুকরণ করতে ভালোবাসে। তাই বাবা-মাকে নিজেও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শিশুকে স্ক্রিন থেকে দূরে রেখে খোলা মাঠে বা পার্কে খেলতে উৎসাহিত করা উচিত। এতে শুধু শরীরই নয়, মনও ভালো থাকে। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, খেলাধুলা শিশুর জীবনে শুধু আনন্দের বিষয় নয়, এটা বেশ প্রয়োজন। আজকের এই ছোট ছোট দৌড়ঝাঁপ, লাফালাফি আর ঘাম ঝরানো মুহূর্তগুলোই আগামী দিনের একজন সুস্থ, সবল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ গড়ে তোলে। তাই আসুন, শিশুকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনি- যেখানে তার হাড় হবে মজবুত, পেশি হবে শক্ত আর মন হবে প্রাণবন্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/