• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম-নিপীড়নের ভয়াবহ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল

অনলাইন ডেস্ক / ৮০ Time View
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এমন ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি অংশ নেন।

সভায় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বিগত শাসনব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়।

স্পিকার বলেন, টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘদিন গুম থাকার মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ‘আয়নাঘর’-এ দীর্ঘ বন্দিজীবনের নির্মম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। একইভাবে সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় সাত মাস আটকে রেখে তার ওপর চালানো চরম অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের বিবরণ দেন।

সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার ঘটনা দেশবাসীর কাছে ‘গুম’ শব্দটিকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপরাধ করেছিল। এসব অপকর্মের কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আগত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নকে অমানবিক ও জঘন্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার নিজ দেশ রোমানিয়ায় সাবেক শাসক চউশেস্কুর নির্মম দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের অদ্ভুত মিল রয়েছে।

অ্যান্ডা ফিলিপ আরও জানান, বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি আইপিইউ-এর গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবেন।

আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/